মাদকাসক্ত নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের: শৈলকূপায় সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষে আহত ৫
মেহেদী হাসান,শৈলকুপা উপজেলা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বড় মৌকুড়ী গ্রামে মাদকের অভিযোগ ও ডোপ টেস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গ্রাম্য সালিশ বৈঠক চলাকালীন সৃষ্টি হওয়া এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে বড় মৌকুড়ী গ্রামের শাওন নামে এক যুবককে মাদকের অভিযোগে আটক করে পুলিশ। তবে ডোপ টেস্টে তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এর পরদিনই চলতি সপ্তাহে শামীম নামে আরও এক যুবককে একই অভিযোগে পুলিশ আটক করে। ডোপ টেস্টে শামীমের রিপোর্টও নেগেটিভ আসে।
পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর শাওন ও শামীম একে অপরের বিরুদ্ধে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আজ (বুধবার) গ্রাম্য মাতব্বরদের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশ বৈঠক চলাকালীন শাওন ও শামীমের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম রূপ নিলে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয়পক্ষের ৫ জন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শাওন ও শামীম দুজনেই এলাকায় মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। ডোপ টেস্টে নেগেটিভ এলেও তাদের মূল কর্মকাণ্ড মাদককে কেন্দ্র করেই। তাদের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে আজ গ্রামে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শৈলকূপা থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।